শায়েস্তাগঞ্জে পৌরসভায় চাহিদার চেয়ে ৬ জন ডিলার মধ্যে ১জন ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র খোলে ৩ শ ভোক্তাকে ৫ কেজি আটা এবং ২ ভোক্তাকে ৫ কেজি চাল দিলে ও হাজারের উর্ধে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে মানুষ
শায়েস্তাগঞ্জে পৌরসভায় চাহিদার চেয়ে ৬ জন ডিলার মধ্যে ১জন ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র খোলে ৩ শ ভোক্তাকে ৫ কেজি আটা এবং ২ ভোক্তাকে ৫ কেজি চাল দিলে ও হাজারের উর্ধে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে মানুষ
সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বর্তমান বাজারে নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খোলা বাজারে (ওএমএস) বিক্রয় কেন্দ্র নিম্নবিত্ত নারী-পুরুষের ভীড় দিন দিন বেড়েই চলেছে। সারাদেশে ২ হাজার ৯৭৬ জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ওএমএস ডিলার মাধ্যমে ১ জন ভোক্তা মাথা পিছু সর্বোচ্চ ৫ কেজি আটা এবং ৫ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌর সভায় একজন ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রে মাথা পিছু ৫ কেজি আটা ১ শ জনকে এবং ২ শ জনকে মাথা পিছু ৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র ডিলার সংখ্যক কম থাকায় চাহিদা মতো পৌরসভায় ১৫ শ উর্ধে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে আটা ও চাল দিতে পারছে না পারায় খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। তবে চালের চেয়ে আটা বরাদ্দ কম। জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা এ শ্রেণির পৌরসভায় ৬ জন ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র ডিলার নিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে ১ জন ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র আটা ও চাল দিতে ডিলাররা হিমসিম খাচ্ছে।
চাল ও আটা না পেয়ে অনেকেই ডিলারদের কে নানা ধরনের কথা শুনতে হচ্ছে। উপজেলা পৌরসভা হাসপাতাল সড়ক এলাকায় জহুর আলী মার্কেট ভেতর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভা ১জন ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র চাল ও আটা বিতরণ করা হয়। সরকারি ছুটি দিন ছাড়া প্রতিদিন ভোর সকাল থেকে পৌরসভা সহ আশপাশের ইউনিয়ন হতে ১৫ শত উর্ধে নারী-পুরুষ উপচে পড়া ভীড় জমে দীর্ঘ সারি লাইন হয়ে থাকে। এর মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তারা চাল ও আটা নিতে গিয়ে সারি লাইনে ধাক্কা ধাক্কি ্লেগে থাকে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে ডিলাররা। এক পর্যায়ে দুপুর ২ টা আগেই ৩শ জনকে চাল ও আটা দিয়ে শেষ হয়ে যায়। হাসপাতাল এলাকায় ওএমএস ডিলার জানান, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় ৯ টি ওয়ার্ডে ৮০% নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার বসবাস করে। এর মধ্যে আশপাশের ইউনিয়ন হতে শত শত নারী-পুরুষ ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রে ভোর সকাল থেকে সারি লাইনে চাল ও আটা নিতে আসে। পৌরসভার নারী-পুরুষ চিনলে ও বহিরাগত ইউনিয়নের লোকজনকে চিনা যায় না। ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র খোলা সাথে পুরুষের চেয়ে বোরকা পড়া মহিলা ৩ গুন বেশি সারি লাইনে থাকে। অথচ পৌরসভায় ৯ টি ওয়ার্ডে ৬ জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেয়া হলে ও চাপের মুখে ৩ জন ভোক্তাকে আটা ও চাল দিতে হচ্ছে। অপরদিকে, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ১ জন ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র ডিলারকে বন্যায় ক্ষতি সাধন উপলক্ষ্যে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নে কলিমনগর এলাকায় দেওয়া হয়েছে।
সেখানে ৩ জন ভোক্তাকে মাথা পিছু ৫ কেজি আটা ১ জনকে এবং মাথা পিছু ৫ কেজি চাল ২ জনকে দেওয়া হয় কিন্তু সেখানে ও চাহিদা তুলনায় ৪ গুন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ হয়ে থাকে। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় আরো ৩ জন ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র ডিলার দেওয়া হলে অনেক সুবিধা হতো। ১ টি পুরান বাজার, ১টি থানা রোড ও ১ টি দাউদনগর বাজার মনিকা সিনেমা হল এর পাশে। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর সভায় ১ টি ওএমএস চাল ও আটা বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং পৌরসভার ওএমএস ডিলার শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নে কলিমনগর এলাকায় আটা ও চাল বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আটা ও চাল বরাদ্দ খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পৌরসভায় আরো ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র খোলা ও বরাদ্দ বাড়ানো বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। এ প্রসঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করুন। পৌর সভা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী-পুরুষের সংখ্যা খুবই বেশি।
এর মধ্যে আটা ও চালের দাম বাজারে বেশি হওয়ায় পৌরসভায় নারী-পুরুষের ভীড় হচ্ছে। এদিকে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর সভার পশ্চিম লেঞ্জাপাড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ লাল মিয়া ও হাসপাতাল রোড এলাকার সিএনজি চালক মোঃ রমজান আলী বলেন, পৌরসভায় আরো ৩ টি ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হলে পৌরবাসীর নিম্ন ও মধ্যবি চাল ও আটা নিতে সুবিধা হবে এবং ভীড়ের সংখ্যা কম হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স